ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ | চ্যানেল এস৫ অনলাইন: লিটন দাসের দুর্দান্ত শতকে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৩২ রান। ফলে সিরিজের একমাত্র টেস্টে জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৭ উইকেট, অন্যদিকে আফগানিস্তানকে করতে হবে আরও ৩৪৭ রান।
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ দিন ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। তাঁর শতক ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ২৪০ রানে। এতে প্রথম ইনিংসের লিড কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের সামনে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ২২৩ রান। অপরাজিত লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে দলের স্কোর আরও সমৃদ্ধ করেন।
দিনের শুরুতে আফগান স্পিনার কাইস আহমেদের বলে ১৪ ও ২৬ রানে ক্যাচ দিয়ে দুবার বেঁচে যান লিটন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন তিনি। মাত্র ৬১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ১১৪ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম শতকের দেখা পান এই ডানহাতি ব্যাটার।
লিটনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মিরাজ। তাঁর অর্ধশতকটিও আসে লিটনের শতকের ঠিক আগের ওভারে। ব্যক্তিগত ৪৪ রানে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পর মিরাজও ইনিংসটি বড় করেন।
লিটন ১৪টি চারের সাহায্যে ১১৭ বলে ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অন্য প্রান্তে ৫টি চারে ৯৭ বলে ৫২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। সপ্তম উইকেটে দুজনের ২০১ বলে ১৪৯ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে বড় অবদান রাখে।
এর আগে দলের হয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ এবং মুশফিকুর রহিম ৮১ রান করেন। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে জিয়া উর রহমান, ইয়ামিন আহমাদজাই ও মোহাম্মদ সালিম দুটি করে উইকেট নেন।
৪৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার আব্দুল মালিককে ২ রানে ফিরিয়ে দেন এবাদত হোসেন।
এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নাদা শহিদুল্লাহ চারটি বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেন। তাঁকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। মাত্র ২৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও অধিনায়ক রহমত শাহ। দুজনের ২১৪ বলে ৮২ রানের জুটি আফগানিস্তানকে শতরানের গণ্ডি পার করায়। ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৫১ রান করে রহমত আউট হলে জুটি ভাঙে।
দিনের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন আতাল ও হাসমতুল্লাহ শাহিদি। আতাল ৩৫ এবং শাহিদি ১৯ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করবেন। বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন দুটি এবং হাসান মাহমুদ একটি উইকেট পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে আফগানিস্তানের দুই অপরাজিত ব্যাটার কতক্ষণ প্রতিরোধ গড়তে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ম্যাচের শেষ পরিণতি।