ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ | চ্যানেল এস৫ অনলাইন: আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে চালকের আসনে রয়েছে বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেট শিকারের নৈপুণ্যে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়েছে টাইগাররা। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩ রান। হাতে রয়েছে আরও চার উইকেট, আর সব মিলিয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানে।
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান করা আফগানিস্তান তৃতীয় দিনে মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই বাকি ছয় উইকেট হারায়। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ইনিংসের ৮৩তম ওভারে নিজের ১৮তম ওভারের টানা তিন বলে ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়া উর রহমানকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় বোলার এবং প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন হাসান। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী।
হাসান পুরো ইনিংসে ২১ ওভার বল করে ৫৫ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট শিকার করেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ পাঁচ উইকেটের ইনিংস। অন্যদিকে, এবাদত হোসেন ৫৬ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে যায় একটি উইকেট।
বাংলাদেশের বোলারদের দাপটের মধ্যেও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। আগের দিন ৮৪ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ২১৬ বলের ইনিংসটি সাজান ১০টি চার ও দুটি ছক্কায়। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক।
রহমতের পাশাপাশি আব্দুল মালিক ৬২, ইকরাম আলিখিল ৩২ এবং শহিদুল্লাহ ২০ রান করেন। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি আফগানিস্তান।
১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩১ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ১৩ রান করে বিদায় নেন সাদমান ইসলাম। এরপর মোমিনুল হক ৭ এবং তানজিদ হাসান ৩১ রান করে ফিরে গেলে ৫৩ রানেই তিন উইকেট হারায় দল।
এমন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে ৩০৩ বলে ১৫৯ রানের জুটি গড়ে দলের লিড তিনশ ছাড়িয়ে দেন তারা।
শান্ত ৮২ এবং মুশফিক ৮১ রান করে আউট হন। মুশফিকের ইনিংসে ছিল নয়টি চার, আর শান্তের ব্যাট থেকে আসে পাঁচটি চার। দুজনই অল্পের জন্য শতকের দেখা পাননি। তাদের বিদায়ের পর নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মাহমুদ মাত্র এক রান করে ফিরে যান।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় উইকেটে অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটনের সংগ্রহ পাঁচ রান, মিরাজ তখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি। আফগানিস্তানের হয়ে জিয়া উর রহমান ও ইয়ামিন আহমাদজাই দুটি করে উইকেট নেন।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৪৬ অলআউট (৯২.৩ ওভার)
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৪০ অলআউট (৮৯.১ ওভার)
রহমত শাহ ১০৫*, আব্দুল মালিক ৬২; হাসান মাহমুদ ৫/৫৫, এবাদত হোসেন ৪/৫৬।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২২৩/৬ (৭২ ওভার)
নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১; ইয়ামিন আহমাদজাই ২ উইকেট।
তৃতীয় দিনের শেষে ৩২৯ রানের লিড নিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে ব্যাটাররা লিড আরও বাড়াতে পারলে আফগানিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করানোর সুযোগ থাকবে টাইগারদের।