ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬| চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
মরক্কো সীমান্ত ঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিবাসীদের ব্যাপক প্রবেশকে ঘিরে বড় ধরনের মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস শুক্রবার এই মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। যদিও নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, অনেকে সমুদ্রে ডুবে এবং সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে, স্থল ও সমুদ্রপথ মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা বা প্রবেশ করেছেন। অনেকেই সাঁতরে কিংবা সীমান্তের বেড়া অতিক্রম করে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছান।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক অভিবাসী, বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশু ও পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। এতে সেউতায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

তারাজাল সৈকত এলাকায় সীমান্ত পারাপারের সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে পদদলিত হওয়া, পানিতে ডুবে যাওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সংঘর্ষের পর কয়েকটি যানবাহন পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্পেনের আরেকটি উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল মেলিলার মতো সেউতাও ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে আসা বহু মানুষ নিয়মিত এই সীমান্ত ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
স্পেন সরকার মনে করছে, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়কে ঘিরে মানবপাচারকারী চক্র বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজের ভাষ্য, এই গুজবের কারণেই অনেক মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছেন। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীরা এ দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সুরক্ষার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জার্মানি ও ফ্রান্স স্পেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ফ্রান্স ইতোমধ্যে স্পেন সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনই জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন দেখছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।