ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবহন খাতের বিদ্যমান সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ যাতে অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা যাত্রীদের ভোগান্তির কারণে ম্লান না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। পূজা উদযাপনকারী মানুষসহ সব যাত্রীর নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
পরিবহন ব্যবস্থায় যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে
সভায় ছুটির সময়ে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ বাস সার্ভিস চালু, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফেরি প্রস্তুত রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।
এ ছাড়া সেতুর টোল প্লাজাগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রেলপথে যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু এবং অন্যান্য রুটে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি টিকিটের কালোবাজারি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
নিরাপত্তায় বিশেষ নজর
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জনসমাগম ও যানবাহনের চাপ বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বাস মালিক সমিতি ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং ছুটির সময়ে দেশের মানুষের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।