
ঢাকা, গত ১৮ জুলাই ২০২৬: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি বলেন, দুর্যোগের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় অচল থাকতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়কের পিচ উঠে গেছে, কোথাও ভেঙে পড়েছে সড়কের অংশবিশেষ। পাশাপাশি সড়কের পাশ ধসে পড়া, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং জরুরি সংস্কারকাজ শুরুর জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। বন্যার স্রোতে কোথাও সড়ক ভেঙে গেছে, আবার দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কের পিচের স্তর।
চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারে প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জরুরি পণ্য, খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহণের সড়কগুলোকে প্রথমে সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জেলা-উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
কোনো কোনো স্থানে স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী টেকসই ও স্থায়ী পুনর্নির্মাণকাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকায় নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বন্যার কারণে কিছু এলাকায় কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হলেও বিকল্প সড়ক ব্যবহার ও জরুরি মেরামতের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
জরুরি সংস্কারকাজে প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ভবিষ্যতে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ক্ষতি কমাতে জলবায়ু-সহনশীল যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করলেই হবে না; ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে বারবার ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো স্থানে ঝুঁকি দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করতে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে হবে। কোনো সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।