
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬ : টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার পর টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে টাইগাররা।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এর আগে একটি সিরিজ ড্র এবং একটি সিরিজে হেরেছিল বাংলাদেশ।
চলতি সফরে টেস্টে ১-০ এবং ওয়ানডেতে ২-১ ব্যবধানে হারের পর টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয় দিয়ে সফর শেষ করল বাংলাদেশ। চলতি বছরে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয় এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় টাইগাররা।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন ডিওন মায়ার্স। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৫৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।
শুরুতেই টাদিওয়ানাশে মারুমানিকে ৪ রানে ফিরিয়ে দেন মাহেদি হাসান। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও মায়ার্স দ্বিতীয় উইকেটে ৭১ রানের জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ রান করে সাইফুদ্দিনের বলে বোল্ড হন।
পরে সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়েন মায়ার্স। রাজাকে ৩ রানে ফিরিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। শেষদিকে বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদের দারুণ পারফরম্যান্সে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শেষ তিন ওভারে মাত্র ১৬ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা নষ্ট করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ২টি উইকেট নেন। মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন ও আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন পান একটি করে উইকেট।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। তবে তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি গড়েন তারা। ইমন ২২ বলে ২৪ রান করে সিকান্দার রাজার বলে আউট হন।
এরপর অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের ভিত মজবুত করেন তানজিদ। দুজনের জুটি থেকে আসে ৬৩ রান। ১৯ বলে ২৪ রান করে হৃদয় ফিরে গেলেও তানজিদ দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান।
টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১৩তম অর্ধশতক তুলে নেওয়া তানজিদ হাসান শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৬৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ৪টি ছক্কা।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। পরপর দুই বলে মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফুদ্দিন আউট হলে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হয়। শেষ তিন বলে দরকার ছিল ৪ রান। চতুর্থ বলে কভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মাহেদি হাসান। তিনি ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে এনগারাভা, ইভান্স ও সিকান্দার রাজা দুটি করে উইকেট নেন।