ঢাকা, ৬ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
দুর্ঘটনায় আহত যেকোনো ব্যক্তিকে সরকারি কিংবা বেসরকারি—সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অবিলম্বে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সব ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আট বছর আগে দায়ের করা একটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন।
২০১৮ সালে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহত খুলনার ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। একই ঘটনায় ছিনতাইকারীদের টানাহেঁচড়ায় গাড়ির নিচে পড়ে নিহত হন বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী হেলেনা বেগম। এসব ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (HRPB)-এর পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়।
রিটের শুনানিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা বাধ্যতামূলক করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।

সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসার নির্দেশ হাইকোর্টের
চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট রুল আংশিকভাবে যথাযথ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত সার্কুলার জারি করার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি ছিনতাইসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিও যেন নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা পান, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নীতিমালা থাকলেও তা সব ধরনের দুর্ঘটনা বা বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন রায়ের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার নির্দেশনা এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আদালত ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে সব ধরনের দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়নের কথাও বলেছেন।
তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ কারণে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ না দিয়ে বিদ্যমান আইনের আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ রয়েছে বলে মত দিয়েছেন আদালত।