ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২৬ চ্যানেল এস৫ অনলাইন : বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সুরক্ষা আরও জোরদার করতে মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশোধিত ভাতা ও অনুদানের হার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। নতুন ব্যবস্থায় মাসিক সম্মানি ভাতার পাশাপাশি উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুদান এবং বাংলা নববর্ষ ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও উল্লেখযোগ্য হারে আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং কল্যাণ আরও সুসংহত করা।
নতুন হার অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া তাঁরা ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, মহান বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা বিশেষ অনুদান এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তাঁদের ক্ষেত্রেও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, বিজয় দিবস অনুদান ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা বহাল থাকবে।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে—
‘ক’ শ্রেণি (৯৬–১০০ শতাংশ অক্ষম): মাসিক ৩০ হাজার টাকা
‘খ’ শ্রেণি (৬১–৯৫ শতাংশ অক্ষম): মাসিক ২৮ হাজার টাকা
‘গ’ শ্রেণি (২০–৬০ শতাংশ অক্ষম): মাসিক ২৩ হাজার টাকা
‘ঘ’ শ্রেণি (১–১৯ শতাংশ অক্ষম): মাসিক ২০ হাজার টাকা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। সর্বশেষ ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ, যা তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাসিক সম্মানি ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা, উৎসব ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। নতুন এই সিদ্ধান্তকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জন্য সরকারের চলমান কল্যাণমূলক উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।