ঢাকা,২৯জুলাই,চ্যানেল এস৫ অনলাইন: মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর হাসিনা রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীনও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কমানো, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে প্রশিক্ষণ এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয় গুরুত্ব পায়।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নারী ও শিশুদের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আইআরসিকে শুধু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নয়, সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কেয়ার ইকোনমিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে আইআরসির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।
আইআরসির ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর হাসিনা রহমান বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নারী ও শিশুদের সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানে আইআরসি ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
আলোচনায় মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় হয়।
অতিরিক্ত তথ্য: ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা, যা সংঘাত, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সুরক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বের বহু দেশে কাজ করে। বাংলাদেশেও সংস্থাটি বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।