ঢাকা, ২ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব ধরনের নিরাপত্তা ও কারিগরি যাচাই সফলভাবে শেষ হলে আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনের কাজ গত ১২ মে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধাপে নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার পরীক্ষা চলছে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হবে। উৎপন্ন তাপের মাধ্যমে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা। তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে। এখন পর্যন্ত হাজারো কারিগরি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চূড়ান্ত ধাপে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাকি রয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) জানিয়েছে, প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ও কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মক্ষমতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চলবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে আগামী বছর প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং নির্মাণকাজে সহযোগিতা করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় সংরক্ষণ করা হবে এবং বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রাশিয়ায় পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নিরাপদ পরিচালনার স্বার্থে প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব পরীক্ষা সম্পন্ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।