ঢাকা, ৫ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের মূল শক্তি ছিল দেশের সাধারণ মানুষ। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই আন্দোলন সফল হয়েছে এবং এর কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র জনগণের।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিএনপি আয়োজিত “গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ ধারাবাহিকভাবে রাজপথে ছিল। আন্দোলনের সেই ধারাবাহিকতার ফলেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তব রূপ পেয়েছে।
তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন বিরোধ নয়, দেশ পুনর্গঠনই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ও ঐক্যের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা এখন জনগণের সমর্থনপ্রাপ্ত জাতীয় রূপরেখায় পরিণত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করা।
সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার কাজ শুরু করেছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাস সংকট নিরসনে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও চালু রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষা খাতে আনন্দমুখর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।