ঢাকা, ৫ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবারের সার্বিক দেখভাল এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন কিংবা স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন, তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।
৫ আগস্ট, বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন পরিবর্তনের সূচনা হয় এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তিনি আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বলেন, তাদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে আহত এক যোদ্ধার উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তারা যেন ন্যায্য অধিকার পেতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সরকার সচেষ্ট থাকবে।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না এবং সরকার তাদের সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, সরকার কোনো ভুল করলে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তা সংশোধনে সহযোগিতা করার জন্য।
রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সংযম এবং দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য ছিল, তেমনি জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্যও ছিল জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব নাগরিককে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে কোনো বিভাজন বা সংকীর্ণ স্বার্থ দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।