ঢাকা, ৬ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ মানুষ বর্তমানে অন্ধত্ব নিয়ে জীবনযাপন করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদের বড় একটি অংশের দৃষ্টিশক্তি হারানোর প্রধান কারণ হলো ছানি। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি বাড়লেও, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা কারণে কম বয়সেও ছানি দেখা দিতে পারে।
চোখের স্বাভাবিক লেন্স স্বচ্ছ থাকায় আলো রেটিনায় পৌঁছে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই। কিন্তু এই লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে গেলে সেটিই ছানি নামে পরিচিত। সময়মতো চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে এবং জটিল অবস্থায় স্থায়ী অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সজনিত কারণ ছাড়াও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চোখে আঘাত, জন্মগত সমস্যা, দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন, চোখের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, অতিবেগুনি রশ্মি বা তীব্র তাপের মধ্যে দীর্ঘসময় কাজ করা এবং ভিটামিনের ঘাটতি ছানির ঝুঁকি বাড়ায়। ওয়েল্ডিং বা বিকিরণ এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিরাও ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় কখন চিন্তার?
ছানির সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ঝাপসা দেখা। এছাড়া—
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, ছানি কোনো ওষুধে ভালো হয় না। এর একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। সময়মতো অপারেশন না করলে ছানি পরিপক্ব হয়ে চোখের ভেতরে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে চোখের চাপ বেড়ে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ এবং স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।
বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়েই ছানির সফল অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এসআইসিএস (SICS) এবং ফ্যাকো ইমালসিফিকেশন (Phacoemulsification) পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে ছানি অপসারণ করে কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়। অভিজ্ঞ চক্ষু সার্জনের মাধ্যমে এ অস্ত্রোপচার করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তিতে কোনো পরিবর্তন অনুভব করলে অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব।