ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬ : গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে এবং প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারাতে পারে।
আজ রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে দাবি আদায় হলে সেটি হবে স্বস্তির বিষয়। তবে সংসদে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জনগণের রায়ের সঙ্গে বেইমানি করা হবে না এবং গণভোটের রায়কে কোনোভাবেই অপমান করা উচিত নয়।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, শক্তিশালী গুমবিষয়ক কমিশন এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কথা বললেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেকে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী কাঠামো ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণেই গণভোটের রায় নিয়েও অনেকে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করছে।
জুলাইয়ে নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই যথেষ্ট নয়; তাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণীয় করে রাখতে হবে। কারণ বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল—উভয়ই জুলাই আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসেছে।
জুলাই আন্দোলনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ের অবদানকে খাটো করে দেখেন, তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদেরই ছোট করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো পুরোপুরি রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর জুলাই আন্দোলনের অনেক অঙ্গীকার থেকে সরে যাচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদসংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অথচ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো পূর্বে এসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্বাচনের আগে এসব বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি হাতে পাওয়ার পর জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন এই অবস্থান পরিবর্তন করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।