দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩০)’ শীর্ষক এই পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে বৃহস্পতিবার ইউজিসিতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। ইউজিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা ইউজিসির নেতৃত্বেই তৈরি হওয়া উচিত। উচ্চশিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করতে ইউজিসির নেতৃত্বকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়; বরং তাদের মেধা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ জন্য বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার, ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তরবিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশের ভিত্তিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনায় স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানো, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সহযোগিতা জোরদার, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং সুশাসন ও মান নিশ্চিতকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ, কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক অংশীদারত্ব বাড়ানো, সমন্বিত জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও এতে রাখা হয়েছে।
আলোচনা সভায় ইউজিসির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।