ঢাকা, ২৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, দেশটির সামনে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা আরও বড় ধরনের হামলার মুখোমুখি হওয়ার—এই দুটি পথ খোলা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং তেহরান বিষয়টিকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ কারণে আপাতত বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে যায়, সেটিই হবে তার জন্য একটি ‘লাল রেখা’। ওই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। পাল্টা হামলায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী শুক্রবার দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, বাহরাইনে অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অ্যামাজন বা বাহরাইন সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের কোনো স্থাপনা বা কর্মী হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ভোরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আবারও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত রূপ নিতে পারে।