ঢাকা, ২ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
মরক্কোর অনেক তরুণ উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের আকর্ষণীয় জীবনযাপনের নানা ছবি ও ভিডিও তাঁদের মধ্যে নতুন করে বিদেশে পাড়ি জমানোর আগ্রহ তৈরি করছে। তবে বাস্তবে সেই পথ অনেক বেশি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।
সম্প্রতি স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশের উদ্দেশ্যে মরক্কোর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো তরুণ সীমান্তের দিকে রওনা হন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলেও বিপুলসংখ্যককে নিরাপত্তা বাহিনী ফিরিয়ে দেয়। অল্প কয়েকজন সেউতায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।
তরুণদের ভাষ্য, দেশে দীর্ঘদিন বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের বিদেশমুখী করে তুলছে। অনেকের বিশ্বাস, ইউরোপে পৌঁছাতে পারলে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে, যদিও বাস্তবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সেখানে স্থায়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের জীবনকে অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে অনেক তরুণ প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা না নিয়েই বিপজ্জনক যাত্রায় নামছেন।
অভিবাসনবিষয়ক গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো থেকে সীমান্ত অতিক্রমের প্রবণতায় একটি নতুন দিক দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে মূলত বেকার বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ এই পথে যেতেন, এখন চাকরিজীবী ও শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেও বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। তাঁদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক হতাশাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং বাস্তবসম্মত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের প্রবণতা কমানো সম্ভব।