ঢাকা, ১লা আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন
মরক্কো সীমান্ত ঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিবাসীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। স্থল ও সমুদ্রপথ মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে শহরটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সীমান্ত পারাপারের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক এই ঘটনায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় পৌঁছেছেন। অনেকেই সমুদ্রে থাকা সীমান্তবেষ্টনী সাঁতরে অতিক্রম করেছেন। যদিও নিহতদের মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে প্রবেশ করা অভিবাসীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও চলছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রশিদ সাবিহি পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিভাবকহীন শিশুসহ বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন এবং অনেকেই খাবার ও আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের একটি অংশ সমুদ্রে ডুবে মারা যান। এছাড়া সীমান্তের তল্লাশি এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হয়েও কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে সেখানে কয়েকটি যানবাহন পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ সৈকতসংলগ্ন সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশ করছেন। তাঁদের মধ্যে তরুণদের পাশাপাশি নারী ও শিশুসমেত পরিবারও ছিল।
সেউতা ও মেলিলা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর, যা আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। ইউরোপে প্রবেশের আশায় বহু অভিবাসী নিয়মিত এই পথ বেছে নেন।
সেউতা প্রশাসনের ধারণা, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় এই অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অধিকাংশ অভিবাসী ওই রায় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। ফ্রান্সও প্রয়োজনে স্পেনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে এবং নিজ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। সেউতার আঞ্চলিক সরকার অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজনীয়তা নাকচ করেছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছে সরকার।