ঢাকা ২৭জুলাই,চ্যানেল এস৫ অনলাইন : উত্তর কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার আহ্বান জানানোয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (ASEAN) তীব্র সমালোচনা করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। তিনি আসিয়ানের এ অবস্থানকে ‘বোকামিপূর্ণ ও অবাস্তব স্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসিয়ানের বার্ষিক আঞ্চলিক ফোরামে সদস্য দেশগুলো উত্তর কোরিয়ার চলমান পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘পরমাণুমুক্ত কোরীয় উপদ্বীপ’ গঠনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ’ নীতির সঙ্গে সুর মিলিয়ে আসিয়ান যে অবস্থান নিয়েছে, তা উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘স্পষ্ট বৈরী মনোভাবের’ বহিঃপ্রকাশ। তিনি অভিযোগ করেন, আসিয়ান উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদাকে উপেক্ষা করেছে।
কিম ইয়ো জংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণুমুক্ত করার দাবি কৌশলগত বাস্তবতা ও যুক্তিবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি এটিকে ‘বোকামিপূর্ণ ও অবাস্তব কল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, আসিয়ানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাড়াটে মুখপাত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করা।
চলতি বছরের জুন মাসেও কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা বা সুযোগ দেখছে না। তাঁর দাবি, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি অপরিহার্য।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে তুলে ধরে আসছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাব অনুযায়ী এসব কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ২০২৩ সালে দেশটি সংবিধানে নিজেদের ‘পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। ওই বৈঠকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধের কারণে আলোচনা ভেঙে যায়।
এর পর থেকে পিয়ংইয়ং বারবার ঘোষণা দিয়ে আসছে যে, তারা নিজেদের ‘অপরিবর্তনীয় পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।