ঢাকা, ৩১ জুলাই | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় বয়ারচরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো দৃশ্যমানভাবে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, টানা বর্ষণ এবং মেঘনা নদীর জোয়ারের তীব্র স্রোতের কারণে তেগাছিয়া বাজারের পূর্ব পাশে মোহাম্মদপুর মোল্লার খালের ওপর নির্মিত বোবারপুল সেতুর উভয় প্রান্তের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিজঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসংলগ্ন অংশেও সড়ক ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে ওই পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই গাছের ডাল বসিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় অব্যাহত বৃষ্টি ও জোয়ারে আরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
জানা যায়, রামগতি বাজার থেকে বয়ারচরের টাংকির বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয় এবং ২০১৮ সালে পুনঃসংস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও ক্ষয় সৃষ্টি হওয়ায় অনেক স্থানই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, তেগাছিয়া বাজার, চৌরাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়াবাজার এবং উপজেলা সদরে যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকল্প সড়ক না থাকায় যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
চরগাজী ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানান, মানুষের কষ্ট কিছুটা কমাতে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের স্রোতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।