ঢাকা, ১ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
মস্তিষ্কের টিউমার এমন একটি জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা, যা প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই সাধারণ মাথাব্যথা বা দৃষ্টিজনিত সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। অথচ এগুলো কখনও কখনও ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ব্রেন টিউমার প্রধানত দুই ধরনের। একটি হলো প্রাইমারি ব্রেন টিউমার, যা মস্তিষ্কের নিজস্ব কোষ বা এর আবরণ থেকে তৈরি হয়। অন্যটি সেকেন্ডারি বা মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন টিউমার, যেখানে শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের ক্যানসার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বা ক্রমশ তীব্র হওয়া মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বেশি ব্যথা অনুভব করা, কাশি বা হাঁচির সময় ব্যথা বেড়ে যাওয়া কিংবা সাধারণ ওষুধে উপশম না হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
এ ছাড়া ঝাপসা দেখা, বারবার বমি হওয়া, খিঁচুনি, ভারসাম্য হারানো বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে চোখের পরীক্ষার সময়ও মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা পরবর্তী পরীক্ষায় ব্রেন টিউমার শনাক্তে সহায়ক হয়।
টিউমারের সন্দেহ দেখা দিলে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। রোগের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী বায়োপসি, অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপির সমন্বয়ে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আধুনিক নিউরোসার্জারিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অস্ত্রোপচারের সফলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই সন্দেহজনক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।