ঢাকা, ৬ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
বাজার থেকে টাটকা ফল ও সবজি কিনে আনার পর অনেকেই সেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য ফ্রিজে বা রান্নাঘরের এক কোণে রেখে দেন। কিন্তু সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করলে বাইরে থেকে ভালো দেখালেও এসব খাবারে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ফল ও সবজি একইভাবে সংরক্ষণ করা যায় না। আবার সব খাবার নরম হয়ে গেলেই তা ফেলে দিতে হয় না। কিছু খাবার সামান্য নরম হলেও নিরাপদ থাকে, তবে কোথাও ছাঁচ বা পচন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
আপেল সাধারণত ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় প্রায় এক সপ্তাহ এবং ফ্রিজে তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। সামান্য থেঁতলে গেলে সমস্যা না হলেও ছাঁচ বা পচন দেখা দিলে তা খাওয়া উচিত নয়।
কলা কাঁচা থাকলে ঘরের তাপমাত্রায় রাখাই ভালো। অতিরিক্ত পেকে গেলে ফ্রিজে রাখলে আরও কয়েক দিন ভালো থাকে। কমলা, মাল্টা, লেবুসহ লেবুজাতীয় ফল স্বাভাবিক তাপমাত্রায় প্রায় এক সপ্তাহ এবং ফ্রিজে প্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তবে কেটে রাখা ফল অবশ্যই বায়ুরোধী পাত্রে রেখে পাঁচ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত।

ছবি: সংগৃহীত
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি এবং আঙুর দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই এগুলো ফ্রিজে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। খাওয়ার আগে ধুয়ে নেওয়াই ভালো।
যদি একটি বেরি বা একটি আঙুরেও ছাঁচ দেখা যায়, তাহলে পুরো প্যাকেট ফেলে দেওয়া উচিত। কারণ ছত্রাকের উৎপন্ন মাইকোটক্সিন নামের বিষাক্ত উপাদান আশপাশের ফলেও ছড়িয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
টমেটো প্রথমে ঘরের তাপমাত্রায় পাকতে দেওয়া উচিত। পুরোপুরি পেকে গেলে ফ্রিজে রেখে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। টমেটো নরম হলেও যদি ছাঁচ না থাকে, তাহলে খাওয়া নিরাপদ। তবে ছাঁচ দেখা দিলে তা আর ব্যবহার করা উচিত নয়।
গাজর ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে প্রায় দুই সপ্তাহ এবং ফ্রিজে এক মাসেরও বেশি সময় ভালো থাকতে পারে। ছিদ্রযুক্ত ব্যাগে রাখলে দীর্ঘদিন সতেজ থাকে। অঙ্কুর বের হলেও খাওয়া যায়, তবে নরম বা পচে গেলে তা ফেলে দিতে হবে।
শসা ফ্রিজে প্রায় এক সপ্তাহ ভালো থাকে। কাটা শসা অবশ্যই পরিষ্কার পাত্রে বা বায়ুরোধী ব্যাগে রেখে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত।
পেঁয়াজ ঠান্ডা, শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে খোলা পরিবেশে রাখাই উত্তম। অঙ্কুর বের হলেও যদি ছাঁচ না থাকে, তাহলে ব্যবহার করা যায়।
আলুও একই ধরনের পরিবেশে ভালো থাকে। তবে সবুজ হয়ে যাওয়া বা অঙ্কুর গজানো আলু কখনোই খাওয়া উচিত নয়। এতে সোলানিন নামের প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদান তৈরি হতে পারে, যা বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। রান্না করলেও এই বিষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না।

ছবি: সংগৃহীত
সব ফল ও সবজি একসঙ্গে রাখা ঠিক নয়। কারণ কলা ও আপেলের মতো কিছু ফল ইথিলিন গ্যাস নির্গত করে, যা আশপাশের ফল ও সবজি দ্রুত পাকিয়ে নষ্ট করে দিতে পারে।
এ কারণে কলা ও আপেল অন্য ফল বা সবজি থেকে আলাদা রাখা ভালো। পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফল ও সবজি না কিনে কয়েক দিনের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করলে অপচয় যেমন কমবে, তেমনি নষ্ট খাবার খাওয়ার ঝুঁকিও কমে যাবে।
ফল ও সবজি সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কেনাই যথেষ্ট নয়, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও সমান প্রয়োজন। কোন খাবার কতদিন ভালো থাকে এবং কখন তা ফেলে দেওয়া উচিত—এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে একদিকে যেমন খাদ্যের অপচয় কমবে, অন্যদিকে পরিবারও থাকবে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ।