ঢাকা, ৬ আগস্ট | চ্যানেল এস৫ অনলাইন:
প্লাস্টিকের ব্যবহার আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পরিবেশে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না; বরং শত শত বছর ধরে টিকে থেকে ধীরে ধীরে অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এই ক্ষুদ্র কণাগুলোই ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ নামে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন শুধু নদী, সমুদ্র বা মাটিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রবেশ করেছে। মাছ, মুরগি, কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য এমনকি পানীয় পানির মাধ্যমেও মানুষের শরীরে এসব কণা প্রবেশ করতে পারে। আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি করে।
দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুর ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিওসিস ও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণগত মান ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বয়ঃসন্ধিকালেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সময়ের আগে বা বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বিকাশের সমস্যা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ফলে অন্ত্রে প্রদাহ, খাদ্য সংবেদনশীলতা, অটোইমিউন রোগ এবং কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া ফুসফুস, স্তন, প্রোস্টেট ও লিভারের ক্যানসারসহ আরও কয়েক ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়েও বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান করছেন।

অদৃশ্য নীরব ঘাতক: মাইক্রোপ্লাস্টিক
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ রঙিন ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। ডালিম, ড্রাগন ফল, বিট, গাজর, স্ট্রবেরি, চেরি, ব্লুবেরি ও লাল পেঁয়াজের মতো খাবারে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন ও অন্যান্য উপকারী উপাদান শরীরের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তাই আতঙ্কিত না হয়ে দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।